২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি ও ডিজিটাল লটারি প্রক্রিয়া

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি ও ডিজিটাল লটারি প্রক্রিয়া
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি ও ডিজিটাল লটারি প্রক্রিয়া | আবেদন, বয়সসীমা, ফি, নির্দেশনা

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি ও ডিজিটাল লটারি প্রক্রিয়া — পূর্ণ গাইড

সংক্ষিপ্তসারে: ২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হবে অনলাইন আবেদন ও ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে। এই আর্টিকেলে আপনি পাবেন সময়সূচি, ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া, বয়সসীমা, ফি কাঠামো, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সাধারণ প্রশ্নোত্তর।

ভর্তি প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য সময়সূচি (২০২৬)

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ঘোষণা করেছে—২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে গ্রহণ করে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। নীচের সময়গুলি প্রাথমিক; মাউশি চূড়ান্ত ও অফিসিয়ালি বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট করবে।

ধাপকার্যক্রমসম্ভাব্য তারিখ (২০২৬)
প্রধান শিক্ষকরা শূন্যপদ তথ্য সফটওয়্যারে আপলোড করবেন১২–১৮ নভেম্বর ২০২৬
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ১৯ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে
অনলাইন আবেদন শুরু (gsa.teletalk.com.bd)২১ নভেম্বর ২০২৬
অনলাইন আবেদন গ্রহণ শেষপ্রায় ১০–১৫ দিনের সময়ের মধ্যে
ডিজিটাল লটারি১৪ ডিসেম্বর ২০২৬ (সম্ভাব্য)
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি১৭–২১ ডিসেম্বর ২০২৬

উল্লেখ্য: অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এই তারিখগুলো চূড়ান্ত নয়। যেকোনো পরিবর্তন মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হবে।

ডিজিটাল লটারির কাজ করার পদ্ধতি

ডিজিটাল লটারি বলতে বোঝায় — সফটওয়্যার-চালিত এক র‍্যান্ডম নির্বাচন পদ্ধতি, যেখানে আবেদনকারীদের তথ্য নির্দিষ্ট আংশিক শর্ত (জন্মতারিখ, ব্‌যক্তিগত তথ্য ইত্যাদি) যাচাই করে এবং প্রত্যেক আসনের জন্য নির্বিচারে শিক্ষার্থী বেছে নেওয়া হয়। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা, পক্ষপাতহীনতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করা।

প্রক্রিয়াটি সাধারণত নিম্নরূপ:

  1. আবেদনকারীর তথ্য টেলিটকের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়। সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি
  2. সফটওয়্যার লটারি চলমান অবস্থায় নির্ধারিত আসনসংখ্যা অনুযায়ী র‍্যান্ডমভাবে আবেদনকারী বেছে নেয়।
  3. নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং SMS/ওয়েবসাইটে ফলাফল জানানো হয়।

মাউশি জানিয়েছে লটারিতে কারিগরি সহায়তা দেবে রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক।

অনলাইন আবেদন — ধাপে ধাপে গাইড

সব আবেদন একই পোর্টালে করা হবে: gsa.teletalk.com.bd. নিচে আবেদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে দেওয়া হলো:

  1. পোর্টালে প্রবেশ করে “Apply” সিলেক্ট করুন।
  2. অফার করা ফর্মে শিক্ষার্থীর নাম, পিতা/মাতার নাম, জন্মতারিখ, বর্তমান ঠিকানা, জেলা/উপজেলা, স্কুল পছন্দ ইত্যাদি সঠিকভাবে পূরণ করুন।
  3. আপনি পছন্দক্রমে সর্বোচ্চ ৫টি স্কুল নির্বাচন করতে পারবেন — পছন্দ করুন ও অগ্রাধিকার নির্দিষ্ট করুন।
  4. ফর্ম সাবমিট করার আগে সব তথ্য যাচাই করে নিন। সাবমিট করার পরে তথ্য পরিবর্তন করা যাবে না।
  5. অ্যাপলাই করা শেষ হলে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী টেলিটক নম্বর থেকে আবেদন ফি ১১০ টাকা জমা দিন।
  6. পেমেন্ট সফল হলে কনফার্মেশন স্লিপ ডাউনলোড/প্রিন্ট করে রাখুন। সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি

সফল আবেদন ছাড়া লটারি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা যাবে না।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রস্তুতি

অনলাইনে আবেদন করতে সাধারণত কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না; তবে আবেদন-সময়সূচি ও পরবর্তীকালে ভর্তি নিশ্চিতকরণের সময় নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে:

  • শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন সনদ বা বৈধ জন্মতারিখ প্রমাণপত্র
  • পিতা-মাতার বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র (নকল অথবা স্ক্যান করা কপি)
  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • আবেদন কনফার্মেশন স্লিপ (অনলাইন উইন্ডো থেকে প্রিন্ট আউট)

ভর্তির ক্ষেত্রে যদি স্কুল সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র চাইলে সেটি মেনশন করা থাকবে।

আসনসংখ্যা, প্রতিযোগিতা ও গতির তথ্য

সামগ্রিকভাবে সরকারি এবং বেসরকারি স্কুল মিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা বড়—তবুও প্রতিযোগিতা কেবল কিছু প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে বেশি। গত শিক্ষাবর্ষে দেখা গেছে:

  • সরকারি স্কুলের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম; সেখানে আসনসংখ্যাও সীমিত।
  • বেসরকারি স্কুলে মোট আসন বেশ—তবে অনেক বেসরকারি স্কুলে আবেদন কম পড়ে।
  • জনপ্রিয় সরকারি ও নামকরা বেসরকারি স্কুলে চাহিদা বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতা তীব্র হয়। সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি

অভিভাবকরা স্কুল নির্বাচন করার সময় প্রতিযোগিতা, স্কুলের দূরত্ব, পরিবহন, স্কুলের মান ও ফি বিবেচনা করে নেওয়া ভালো।

ভর্তি ফি ও আবেদন ফি (নীতিগত সীমা)

মাউশির নির্দেশ অনুযায়ী ভর্তি ফি ও আবেদন ফি পূর্বের নীতির অনুকরণে নির্ধারিত হবে। সাধারণত:

অবস্থান/ধরনভর্তি ফি (সর্বোচ্চ)
মফস্বল৫০০ টাকা
উপজেলা/পৌর১,০০০ টাকা
মহানগর (ঢাকা ব্যতীত)৩,০০০ টাকা
ঢাকা মহানগরের এমপিওভুক্ত৫,০০০ টাকা
আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান৮,০০০ টাকা
ইংরেজি ভার্সন প্রতিষ্ঠান১০,০০০ টাকা

অ্যাপ্লিকেশন ফি সাধারণত ১১০ টাকা (টেলিটক) — যা অনলাইন পেমেন্টের সময় সম্পন্ন করতে হয়। রাজধানীর উন্নয়ন ফি সীমা এবং বার্ষিক সেশন চার্জ সম্পর্কেও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করাই হয়।

প্রথম শ্রেণির বয়সসীমা (২০২৬)

জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় বয়সসীমা ২০২৬ সালের ক্ষেত্রে নিম্নরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে—

২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে হলে শিক্ষার্থীর বয়স সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছর হওয়া প্রয়োজন। এটি সহজভাবে বোঝাতে বলা যায়—শিক্ষার্থীর জন্মতারিখ সাধারণত হতে হবে ১ জানুয়ারি ২০১৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ এর মধ্যে।

কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে স্কুল বা স্থানীয় শিক্ষা অফিস অতিরিক্ত নির্দেশনা দিতে পারে; ফলে জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য প্রমাণপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা উচিৎ।

লটারির ফলাফল কিভাবে দেখবেন

লটারি ফলাফল প্রকাশ হলে ফল দেখার প্রধান দুটি উপায় হবে:

  1. ওয়েবসাইট: gsa.teletalk.com.bd এ গিয়ে রেজাল্ট অপশনে আপনার আবেদন আইডি ও মোবাইল নম্বর লিখে ফল দেখুন।
  2. SMS: টেলিটকের মাধ্যমে নির্বাচিতদের মোবাইলে SMS পাঠানো হবে।

ফলাফল বের হওয়ার পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত তারিখে স্কুলে গিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করবেন; না করলে তাদের আসন বাতিল করে অপেক্ষমাণ তালিকার শিক্ষার্থীকে সুযোগ দেওয়া হবে।

ভর্তি নিশ্চিতকরণ ও ভর্তি ক্যালেন্ডার

নির্বাচিত শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত সময়ে স্কুলে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণত ভর্তি নিশ্চিতকরণের সময়সীমা এবং নির্দেশনা মাউশি বা সংশ্লিষ্ট স্কুল বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা থাকবে।

উপকারী টিপস অভিভাবকদের জন্য

  • আবেদনের আগেই জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করে নিন।
  • পছন্দের স্কুলের দূরত্ব, পরিবহন ও খরচ বিবেচনা করে স্কুল তালিকা তৈরি করুন।
  • আবেদন সাবমিট করার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন—একবার সাবমিট করলে পরিবর্তন করা যায় না।
  • কনফার্মেশন স্লিপ প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করুন।
  • লটারি ফলাফল ঘোষণার দিন ওয়েবসাইটে একাধিকবার চেক করুন—ট্রাফিক বেশি হলে লোড টাইম বাড়তে পারে।

FAQ — বারবার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর

১. কোথায় আবেদন করব?
সব আবেদন হবেন: gsa.teletalk.com.bd এ।
২. আবেদন ফি কত?
আবেদন ফি সাধারণত ১১০ টাকা—টেলিটক মারফত প্রদান করতে হবে।
৩. একাধিক স্কুলে আবেদন করা যাবে কি?
হ্যাঁ, সাধারণত সর্বোচ্চ ৫টি স্কুল পর্যন্ত পছন্দক্রমে আবেদন করা যায়।
৪. লটারির ফলাফল কি SMS-এ পৌঁছাবে?
হ্যাঁ, নির্বাচিতদের SMS-এর মাধ্যমে জানানো হবে ও ওয়েবসাইটেও ফল প্রকাশ করা হবে।
৫. আবেদন পরবর্তী তথ্য পরিবর্তন করা যাবে কি?
না, আবেদন সাবমিট ও ফি পরিশোধের পরে সাধারণত তথ্য পরিবর্তন করা যায় না।
৬. কোন স্কুলে বেশি প্রতিযোগিতা থাকে?
জনপ্রিয় সরকারি এবং ভালো বেসরকারি স্কুলে প্রতিযোগিতা বেশি থাকে; অনেক বেসরকারি স্কুলে আবেদন কম পড়ে।
৭. লটারিতে নির্বাচিত হলে ভর্তি কখন করতে হবে?
লটারির পর মাউশি দ্বারা নির্ধারিত তারিখে সাধারণত ১৭–২১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে ভর্তি করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে (অফিসিয়ালি নিশ্চিত হবে)।
৮. কীভাবে প্রস্তুতি নেব?
জন্মনিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকে প্রস্তুত রাখুন; সাবমিটের আগে তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন।

আরো দেখুনঃ Best AI Content Creation Tools in 2025 । সেরা এআই কনটেন্ট টুলস

Content Creation with AI Tools – Modern Guide 2025 কনটেন্ট নির্মাণে এআই

অনলাইন ব্যবসা শুরুর গাইড Online Business Shuru Guide-2025

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top